
কানাডায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানের মেধা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা ইউসিএমএএস-এ অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কুশল সাহা। এই অর্জনের মাধ্যমে সে শুধু কানাডাতেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।
ইউসিএমএএস, যার পূর্ণরূপ ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট অব মেন্টাল এরিথমেটিক সিস্টেম, শিশুদের মস্তিষ্কের সার্বিক বিকাশ এবং মানসিক গণনার দক্ষতা বৃদ্ধির একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত এবং সঠিকভাবে গণনার দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। বিশেষ করে মাত্র ৮ মিনিটে ২০০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই একজন প্রতিযোগী ‘গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।
সম্প্রতি কানাডার বিভিন্ন প্রভিন্স থেকে আগত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ইউসিএমএএস প্রতিযোগিতায় কুশল সাহা সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে এই সম্মানজনক খেতাব অর্জন করে। জানা গেছে, কানাডার ছয়টি প্রভিন্সের প্রতিযোগীদের মধ্যে সম্মিলিত গ্রুপে সে এই সাফল্য অর্জন করে, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন।
কুশল সাহার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি শিক্ষিত ও অনুপ্রেরণাদায়ক পারিবারিক পরিবেশ। তার বাবা কমল কৃষ্ণ সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইনান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিএফএ এবং সিএমটি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করে গণিতে পিএইচডি করছেন।
অন্যদিকে কুশলের মা সুস্মিতা সাহা বাংলাদেশে দন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে কানাডার ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত আছেন। তাদের এমন উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন পরিবারই কুশলের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুশল সাহার পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বিটঘর এলাকায় তার জন্ম। তার দাদা, বিশিষ্ট সাংবাদিক সুভাষ সাহা, নাতির এই অসাধারণ অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইউসিএমএএস শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি শিশুদের মেধা, মনোযোগ এবং দ্রুত চিন্তাশক্তি বৃদ্ধির একটি কার্যকর পদ্ধতি।
তিনি আরও বলেন, এত অল্প বয়সে এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া সত্যিই গর্বের বিষয়। এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে তার নাতির জন্য আশীর্বাদ কামনা করেছেন, যেন ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।
এই অর্জন শুধু কুশল সাহার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও একটি বড় অনুপ্রেরণা। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিশ্রম থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় মানসিক গণনা বা মেন্টাল ম্যাথের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ইউসিএমএএসের মতো প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের সেই দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। কুশল সাহার এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সবশেষে বলা যায়, কুশল সাহার এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য গর্বের একটি মুহূর্ত। তার এই সাফল্য দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা যোগাবে।