
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার দলীয় অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচন সম্পন্ন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও ছেড়ে দেবেন। তার এই ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তার সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে স্টারমার বলেন, তিনি দলের সংসদীয় সহকর্মীদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে চান। এ সময় তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়াও উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে স্টারমার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছার কথা জানান।
গত কয়েক মাস ধরে তার সরকারের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমছিল। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, জনসেবা খাতের চাপ কমানো এবং অভিবাসন নীতিতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে না পারার কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয় পেলেও পরবর্তীতে দলীয় নেতাদের একটি অংশ এবং ভোটারদের মধ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিও স্টারমার সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে লেবার পার্টি এখনও নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।