
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয়ের প্রধান কারিগর ছিলেন দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার জোড়া গোলের সঙ্গে উসমান দেম্বেলের একটি গোল যোগ হয়ে সহজ জয় তুলে নেয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে টানা দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শটটি ইরাকের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়েই জালে জড়িয়ে যায়। গোলটি শুধু ম্যাচের স্কোরলাইনই বদলায়নি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেন এমবাপ্পে। ৪১ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে প্রবেশ করলেও শেষ মুহূর্তে ইরাকের রক্ষণভাগের বাধায় দ্বিতীয় গোল থেকে বঞ্চিত হন তিনি। তবুও প্রথমার্ধ শেষ হয় ফ্রান্সের ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে।
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হলে দ্রুতই ব্যবধান বাড়ায় ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতায় বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে উন্নীত করেন এমবাপ্পে। এতে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেন এবং ব্রাজিলের সাবেক তারকা রোনালদো নাজারিওকে পেছনে ফেলেন। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন তার অবস্থান দ্বিতীয়। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ১৮ গোলের মালিক লিওনেল মেসি।
দ্বিতীয় গোলের পরও থেমে থাকেননি এমবাপ্পে। ৫৮ মিনিটে তিনি আরেকটি আক্রমণ গড়ে দেন, যা থেকে প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন তার সতীর্থ মাইকেল ওলিসে। তবে ওলিসের চিপ শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর ৬৬ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে উসমান দেম্বেলে দারুণ ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি করেন। এবারের আসরে এটি ছিল দেম্বেলের প্রথম গোল।
ম্যাচের শেষদিকে ইরাক ব্যবধান কমানোর কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। অন্যদিকে এমবাপ্পে একাধিকবার হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও সফল হতে পারেননি। ৮০ মিনিটে তার একটি ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ইনজুরি সময়েও প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শটটি পোস্টের বাইরে চলে যায়।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। টানা দুই জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে তারা। নকআউট পর্ব নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে ফরাসিরা। অন্যদিকে ইরাককে এখন পরবর্তী ম্যাচে ভালো ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।