
ডালাসের স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগেই যেন আর্জেন্টিনার উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছিল। গ্যালারিজুড়ে আকাশি-সাদা রঙের আধিপত্য, সমর্থকদের কণ্ঠে দলের গান এবং প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনও দেখা গেল মাঠে, যদিও শুরুটা হয়েছিল কিছুটা নাটকীয়ভাবে।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেসের ওপর ফাউলের পর ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। স্পটকিকে দাঁড়ান মেসি। তবে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার দুর্দান্ত দক্ষতায় তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন। এতে মুহূর্তের জন্য হতাশা নেমে এলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক মনোভাব কমেনি।
পেনাল্টি মিসের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে দলটি। ১৯ মিনিটে মেসির একটি প্রচেষ্টা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের কারণে গোল না হলেও অস্ট্রিয়ার ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
অবশেষে ৩৮ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। থিয়াগো আলমাদার তৈরি করা আক্রমণ থেকে ফাকুন্দো মেদিনার কাট-ব্যাক পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন মেসি। গোলরক্ষক শ্লাগার চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং গ্যালারিতে শুরু হয় নতুন করে উদযাপন।
প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। রক্ষণভাগে দৃঢ়তা দেখানোর পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে ওঠে দলটি। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। মার্সেল সাবিটজারের একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি কিছু পরিবর্তন আনেন। হুলিয়ান আলভারেস ও নিকো গনসালেসকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। বদলি খেলোয়াড়রাও আক্রমণে ইতিবাচক প্রভাব রাখেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন।
শেষদিকে অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট সতর্ক। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও আলো ছড়ান মেসি। দ্রুতগতির একটি আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি, যিনি পেনাল্টি মিসের হতাশা পেছনে ফেলে জোড়া গোল করে নিজের তারকাখ্যাতির যথার্থ প্রমাণ দিয়েছেন। সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রতিদান দিয়ে তিনি আবারও দেখালেন, গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তাঁর প্রভাব কতটা বড় হতে পারে।