
রাজধানী ঢাকা-এ সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে হঠাৎ করে অনুভূত হয় একটি ভূমিকম্প। স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও কম্পনের মাত্রা ও হঠাৎ ঘটনার কারণে নগরজুড়ে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তার জন্য অনেকেই দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
ভলকানো ডিসকভার এবং বিভিন্ন ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকা। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ১৬ কিলোমিটার, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় কম্পন রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকার আগারগাঁও থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত বেশি এলাকায় অনুভূত হয় এবং তুলনামূলকভাবে বেশি কম্পন সৃষ্টি করে, যার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় অনেক বাসাবাড়ি, অফিস ও বহুতল ভবনে থাকা মানুষ হঠাৎ কম্পন টের পেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাইরে বেরিয়ে আসেন। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেননি এটি ভূমিকম্প, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আশপাশের খবরের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে রাজধানী বা আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্বল্প সময়ের এই কম্পন নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ভূমিকম্প ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে চলতি মাসেই একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ১৮ জুন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, যা রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় টের পাওয়া যায়। এরও আগে ১১ জুন রাতে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার এবং ৭ জুন রাতে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ধারাবাহিক এই ভূমিকম্পগুলো বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভূ-অভ্যন্তরীণ সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের কম্পন হওয়া স্বাভাবিক। তবে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় ভবন নির্মাণের মান, জরুরি প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।