
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার-এ দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দানবাক্স ও দানের ডেগ খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়েছে। গণনা শেষে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি অর্থ, প্রায় ৭ আনা সোনা এবং কিছু বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরের দিকে সিলেটের সদ্য বদলি হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রশাসনের একটি দল নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সেখানে সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে মাজারের দুটি দানের ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা নতুন দানবাক্স খোলা হয়।
এরপর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। এ কাজে দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী গণনা শেষে নগদ অর্থ ছাড়াও সোনা ও সৌদি রিয়ালসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনা মাজারের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে দানের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সম্প্রতি মাজারের আয়-ব্যয় ও দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসন কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে পুরোনো দানের ডেগ সিলগালা করা হয়, নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং দান সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বদলি নিয়েও সিলেটে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে উপসচিব পদে ন্যস্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার বিভিন্ন ব্যানারে কিছু মানুষ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগ ভবিষ্যতে দানের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।