
খুলনা মহানগর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচ ব্যক্তিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এসব ব্যক্তিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার (২২ জুন) সকালে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষার শিকদার, আবরার ফয়সাল বাদিন, আল আমিন, আসিফ এবং সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি খুলনা মহানগর এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসের ১ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনার বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পরবর্তী অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এসব অস্ত্র কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পলাতক ও বিভিন্ন মামলার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।