
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শতাধিক গুম ও খুনের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করে বিচার প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করার চেষ্টা করছেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবী প্যানেলে রয়েছেন জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার। তিনি প্রায় প্রতিটি শুনানির তারিখেই নতুন নতুন অজুহাত তুলে ধরছেন। কখনও আইনজীবীর অসুস্থতার কথা বলা হচ্ছে, কখনও বা মৃত্যুর কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানো হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রাসঙ্গিক বলে দাবি প্রসিকিউশনের।
তিনি আরও বলেন, রোববার (২১ জুন) ট্রাইব্যুনালে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আজকের দিনে সেই সাক্ষীকে জেরা করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে তিন থেকে চারটি পৃথক আবেদন করা হয়। এর মধ্যে একটি আবেদনকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও বাকি আবেদনগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আবেদন একটি স্বাভাবিক আইনি অধিকার। সেই বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেছে। তবে অন্যান্য আবেদনগুলো শুধুমাত্র সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তার দাবি।
তিনি অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালে এসে নিয়মিতভাবে সময় চেয়ে থাকেন এবং বিচার কার্যক্রমকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন। এটি বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্টভাবে জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের কৌশল আরও কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি বলেন, আগামী শুনানিগুলোতে যদি আসামিপক্ষ আবারও অসৎ উদ্দেশ্যে আবেদন করে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রসিকিউশন আরও জোরালোভাবে আপত্তি জানাবে।
এই মামলাটি দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের অভিযোগ উঠলেও আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবেদন করার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে, জিয়াউল আহসানের মামলাটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ ও দ্রুত হয়, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।