
ফরিদপুরে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. রিবুল হোসেন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার করিমপুর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রিবুল হোসেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়া ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন রিবুল হোসেন। করিমপুর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাস্থলটি ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় প্রায়ই যানবাহনের চাপ থাকে। ফলে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে রিবুল হোসেন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব নিহত হয়েছেন।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসের কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে এবং চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।
রিবুল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখনো একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। ফরিদপুরের এই দুর্ঘটনাও সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।