
সিন্ধু নদী ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, যদি সিন্ধু নদীর পানি প্রবাহে ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, পানি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, পাকিস্তান যদি মনে করে সিন্ধু অববাহিকার পানিতে তাদের ন্যায্য অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তাহলে তারা নিশ্চুপ থাকবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই কড়া মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানির প্রবাহ সীমিত বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ইঙ্গিতের পরই বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পায়। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, ভারতের এমন পরিকল্পনা সিন্ধু পানি চুক্তির লঙ্ঘন। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদী ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের।
পাকিস্তানের মতে, এই পানি তাদের কৃষি, সেচব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তাই পানিপ্রবাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের আহ্বান জানান। অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত চেনাব নদীর পানি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, খরা এবং ক্রমবর্ধমান পানিসংকটের কারণে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই চাপে রয়েছে। এমন অবস্থায় সিন্ধু নদীর পানি ইস্যু দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের এই পানি বিরোধ শুধু কূটনৈতিক উত্তেজনা নয়, বরং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।