
আলু সংরক্ষণের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বিক্ষোভে নেমেছেন কৃষক, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ীরা। রবিবার বেলা ১১টার দিকে জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের কালাই পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন (আলু)-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তিন শতাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী অংশ নেন।
কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের দাবি, চলতি মৌসুমে হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া এমনভাবে বাড়ানো হয়েছে, যা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
বক্তারা জানান, জয়পুরহাট জেলার মোট ১৯টি হিমাগারের মধ্যে ১২টিই কালাই উপজেলায় অবস্থিত। এ অঞ্চল দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী এলাকা হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলা ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অর্গানাইজেশন (আলু)-এর সভাপতি এ কে এম রেজাউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে প্রতি ৬০ কেজি আলুর বস্তা সংরক্ষণে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। উৎপাদন, শ্রম, সার, বীজ, সেচ ও পরিবহন খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি আলুর মোট ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। অথচ বাজারে আলুর দাম সেই অনুপাতে না থাকায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসেন অভিযোগ করেন, কালাইয়ের কিছু হিমাগারে জেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রতি বস্তা আলুর সংরক্ষণ ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দাবির সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আলু উৎপাদনে ব্যয় বাড়লেও বিক্রয়মূল্য সন্তোষজনক নয়। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে মূলধন ফেরত পেতেও সমস্যায় পড়ছেন। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেকেই আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একই দাবিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মোলামগাড়ীহাট এলাকার একটি হিমাগারের সামনেও পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আড়াই শতাধিক কৃষক, সংরক্ষণকারী ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। বক্তারা বলেন, কৃষি উপকরণ ও উৎপাদন ব্যয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা আগেই চাপে রয়েছেন। এর সঙ্গে বাড়তি সংরক্ষণ ব্যয় যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে হিমাগার মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, সরকার নির্ধারিত হারের চেয়েও কম ভাড়ায় বর্তমানে আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমন্বিত কারসাজি বা সিন্ডিকেট কার্যক্রম নেই।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে হিমাগার মালিকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।