
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল স্পেন। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে জয়ের ধারায় ফিরেছে ইউরোপের অন্যতম সফল দলটি। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা দেখিয়েছে কেন এখনও শিরোপা প্রত্যাশীদের তালিকায় তাদের নাম উচ্চারিত হয়।
ম্যাচের আগে সৌদি আরবের কোচ গিওরগিওস দোনিস ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদিদের ঐতিহাসিক জয়ের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং শুরু থেকেই স্পেনের গতিময় আক্রমণের সামনে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়ে সৌদি রক্ষণভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১০ মিনিটেই স্পেনকে এগিয়ে দেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে দলে ফিরে তিনি শুরু থেকেই আক্রমণে প্রাণসঞ্চার করেন। প্রথম ম্যাচে পুরো সময় খেলতে না পারা ইয়ামাল এই ম্যাচে নিজের উপস্থিতির গুরুত্ব ভালোভাবেই বুঝিয়ে দেন।
প্রথম গোলের পর স্পেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে জোড়া গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে স্পেন।
প্রথম ম্যাচে বল স্পর্শ করতেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়া ওইয়ারজাবাল এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা দেন। গোল করার পাশাপাশি ইয়ামালের প্রথম গোলেও সহায়তা করেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্স ম্যাচের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তার সামনে। তবে একটি শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়।
বিরতির পরও স্পেনের চাপ অব্যাহত থাকে। ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে সৌদি আরবের সেন্টার ব্যাক হাসান আলতামবক্তির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। এই গোলের পর মনে হচ্ছিল স্পেন আরও বড় জয় পেতে যাচ্ছে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি। স্পেন একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোলকিপারের দৃঢ়তায় সৌদি দল অতিরিক্ত ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। ফলে স্পেন চার গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এইচের শীর্ষে উঠে এসেছে স্পেন। অন্যদিকে সমান ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে সৌদি আরব। ফলে নকআউট পর্বে ওঠার আশা ধরে রাখতে তাদের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ অপেক্ষা করছে। গ্রুপের বাকি দুই দল উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের ফলাফলের ওপরও নির্ভর করবে তাদের ভাগ্য।
দুর্দান্ত এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং বিশ্বকাপের বাকি পথচলার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছেও একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষ করে ইয়ামাল ও ওইয়ারজাবালের পারফরম্যান্স স্প্যানিশ সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।