
রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলোও যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়।
আইনমন্ত্রী সংসদে জানান, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। মামলার প্রকৃতি যাচাই, অভিযোগের ভিত্তি বিশ্লেষণ এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলা দায়েরের সময় সাধারণত এজাহারে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ থাকে না, ফলে কতটি মামলা সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সবসময় নির্ধারণ করা কঠিন।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের হয়েছে বলে তিনি সংসদকে জানান। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মামলার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র, এজাহার, চার্জশিট এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় যে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না।
যদি কমিটি মনে করে কোনো মামলা জনস্বার্থে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন নেই বা এটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, তাহলে তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করে।
জেলা পর্যায়ের এই সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইনমন্ত্রী নিজেই। এই কমিটি জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করে।
সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ চলছে বলে সংসদকে জানানো হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সময়ের অপচয় কমানো এবং বিচার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা।
সংসদে দেওয়া এই তথ্যের মাধ্যমে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলাগুলো ধাপে ধাপে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো বিপুল সংখ্যক মামলা পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই কমিটির কাজের পরিধি আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।