
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা অংশে নম্বর কাঠামো নিয়ে নতুন করে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বিসিএস ভাইভা পরীক্ষায় মোট নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নম্বর বহাল রাখা হয়েছে এবং এই নিয়ম বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কার্যকর থাকবে।
রবিবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিসিএস পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন (এস.আর.ও. নং ৪১২-আই/২০২৪) অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। প্রজ্ঞাপনের বিধি ১৮-এর উপ-বিধি (১)-এর টেবিল অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কাঠামো সংশোধন করা হয়।
এই পরিবর্তন অনুযায়ী, চলমান ৪৭তম বিসিএস থেকেই ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে। একইভাবে বিশেষ বিসিএস হিসেবে পরিচিত ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএসেও ১০০ নম্বরের ভাইভা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ৫০তম বিসিএস এবং পরবর্তী সব বিসিএস পরীক্ষায়ও এই ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা পদ্ধতি অব্যাহত থাকবে। সরকারের মতে, এই সংস্কারের মাধ্যমে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভাইভা অংশ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই অংশের নম্বর কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নম্বর কমানো বা কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘমেয়াদে একটি আধুনিক ও কার্যকর সিভিল সার্ভিস গঠনে সহায়তা করবে।
বর্তমানে ৪৭তম বিসিএসসহ চলমান সকল প্রক্রিয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রার্থীদের প্রস্তুতি ও মূল্যায়ন কাঠামোতেও কিছু পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।