
তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশজুড়ে চলমান রেড হিটওয়েভ সতর্কতার মধ্যে জাতীয় সংগীত উৎসবকে ঘিরে জনসমাগমস্থলে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক আয়োজন Fête de la Musique প্রতি বছর ২১ জুন গ্রীষ্মকালীন সূর্য অয়নান্ত উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে সাধারণত লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে সংগীত, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। গত বছর শুধু প্যারিসেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ এতে অংশ নিয়েছিল।
তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা ‘মেটিও-ফ্রান্স’ জানিয়েছে, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে শুরু করে প্যারিস অঞ্চল হয়ে বারগান্ডি পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জনসমাগমস্থলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করেছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল পরিবেশন ও পান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুর কার্যালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত মূলত হাসপাতাল ও জরুরি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে।
টানা কয়েক দিনের এই তীব্র গরমে দেশজুড়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক অঞ্চলে ট্রেন চলাচল বাতিল হয়েছে, স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সোমবারের দিকে এই তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়ে ইতিহাসের উচ্চ তাপমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
রাজধানী প্যারিসেও তাপদাহের প্রভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের কিছুটা স্বস্তি দিতে শহরের পার্ক ও বাগানগুলো রাতেও খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বলছে, গরমে অতিরিক্ত ভিড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও ঘনত্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব। ফ্রান্সে এবারের পরিস্থিতি সেই প্রবণতারই আরেকটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তীব্র গরমের মধ্যেও ঐতিহ্যবাহী এই সংগীত উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে, তবে এবার কঠোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে সীমিত আকারে। প্রশাসনের লক্ষ্য, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখে জনস্বাস্থ্য ও জরুরি সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।