
অনুমোদনহীনভাবে ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মর্ডান ড্রাগ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কুমিল্লার তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (২০ জুন) রাতে এই অভিযান চালানো হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল এবং বিভিন্ন উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে এনএসআই, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জুবায়ের ইসলাম মাত্র দুটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনবিহীন এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিলারদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছিল।
অভিযান চলাকালে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম, সংরক্ষিত ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, উৎপাদিত বেশ কয়েকটি ওষুধের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। পাশাপাশি কারখানাটিতে অনুমোদিত টেকনিশিয়ান ছাড়াই ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদনের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অভিযানে উপস্থিত ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, কুমিল্লার অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার বলেন, জব্দ করা ২২ ধরনের ওষুধের কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। এছাড়া কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের ওষুধও সেখানে উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য উৎপাদিত কিছু ওষুধের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। এসব ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম অভিযানের সময় অভিযোগ আংশিক স্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কিছু ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন রয়েছে। তবে কয়েকটি ওষুধের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তিনি বিষয়টি সংশোধনের আশ্বাসও দেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দকৃত ওষুধ ও কাঁচামালের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতে পারে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান হাসান মাহমুদ, এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। তাই এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।