
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তকে রবিবার গভীর রাতে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় তার নিজ বাড়ির কাছ থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আটক করে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।
নিহত প্রান্ত ওই এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে রাতের বেলায় বাড়ি থেকে আটক করা হয় এবং পরে সকালে হাসপাতালে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
তার চাচা ও সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর দাবি করেন, গভীর রাতে ডিবি পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর সকালে তারা জানতে পারেন, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক করার পর প্রান্তকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়। পরে সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, মাদকসহ আটক এক আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, আটক অবস্থায় তার ওপর কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, আটক করার পর প্রান্ত সুস্থ ছিলেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মরদেহ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।