
দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজানের ভারতীয় অঞ্চলে টানা বর্ষণের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর—এই চার জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, এতে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তিস্তা নদীর পানি পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ৪৪টি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও কিছু সময়ের জন্য বিপৎসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে সিলেট বিভাগেও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এ ধরনের ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ভারতের মেঘালয় ও পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। যদিও বর্তমানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে উত্তরাঞ্চল ও সিলেটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।