
মানুষের জীবনে এমন সময় আসে যখন দুশ্চিন্তা, বিপদ, মানসিক অস্থিরতা বা বিভিন্ন সমস্যার কারণে জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আল্লাহর স্মরণ, দোয়া এবং ইস্তিগফারকে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হিসেবে ধরা হয়। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
এমনই একটি পরিচিত আধ্যাত্মিক আমল হলো খতমে খাজেগান। যুগে যুগে বিভিন্ন আউলিয়া, বুযুর্গ এবং তাসাউফপন্থীরা আত্মিক উন্নতি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং দোয়া কবুলের আশায় এই আমল করে আসছেন। বিশেষ করে নকশবন্দিয়া, চিশতিয়া ও অন্যান্য সুফি ধারায় এটি বহুল প্রচলিত।
খতমে খাজেগান মূলত কোরআনের নির্দিষ্ট কিছু আয়াত, দরুদ শরিফ, ইস্তিগফার, তাসবিহ এবং আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহ পাঠের একটি সমষ্টিগত আমল। এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং একটি নফল ইবাদত, যা আত্মিক শান্তি ও আল্লাহর রহমত লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, একাগ্রতা ও ইখলাসের সঙ্গে এই আমল করলে মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আসে, মানসিক চাপ কমে এবং বিভিন্ন বিপদ থেকে মুক্তির পথ সহজ হয়। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেও এটি পড়া হয়ে থাকে।
খতমে খাজেগানের নির্দিষ্ট কোনো একক পদ্ধতি নেই, তবে প্রচলিত একটি নিয়ম নিম্নরূপ—
প্রথমে ইস্তেগফার ১১ বার, এরপর সুরা ফাতিহা ৭ বার, দরুদ শরিফ ১১ বার, সুরা আলাম নাশরাহ ৭ বার, সুরা ইখলাস ১১ বার পাঠ করা হয়। এরপর আবার সুরা ফাতিহা ৭ বার এবং দরুদ শরিফ ১১ বার পড়া হয়।
এরপর আল্লাহর সাহায্য ও দয়া কামনায় বিভিন্ন দোয়া ও জিকির পাঠ করা হয়, যেমন—
“ফাসাহহিল ইয়া ইলাহি কুল্লা সাআবিন…” দোয়াটি ১১ বার পাঠ করা হয়।
এরপর বিভিন্ন আল্লাহর নাম যেমন—ইয়া কাদিয়াল হাজাত, ইয়া কাফিয়াল মুহিম্মাত, ইয়া দাফিয়াল বালিয়্যাত, ইয়া মুজিবাদ দাওয়াতসহ একাধিক নাম ৭ বার করে পড়া হয়।
এছাড়া “রাব্বি ইন্নি মাগলুবুন ফানতাসির”, “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন”, এবং অন্যান্য কোরআনি দোয়া নির্ধারিত সংখ্যায় পাঠ করা হয়।
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিকির যেমন “লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”, “আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম” ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সবশেষে ১০০ বা ১১ বার দরুদ শরিফ পাঠ করে খতম শেষ করা হয় এবং খালেছ নিয়তে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এভাবে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলার রহমতে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় এবং জীবন সহজ হয়।
খতমে খাজেগান মূলত একটি আত্মিক প্রশান্তির আমল, যা মানুষের অন্তরকে আল্লাহমুখী করে তোলে এবং ধৈর্য, বিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে।