
চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা থামছে না। শনিবার (২০ জুন) নতুন করে চালানো একাধিক হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক ক্যামেরাম্যানও রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক ভবনে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহসহ তিনজন নিহত হন। আলজাজিরা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে চলমান সংঘাতে তার পরিবারের আরও সদস্যও প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এছাড়া গাজা শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ভোররাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ বছর বয়সী জিনা এবং ১৪ বছর বয়সী লানা নামের দুই বোন নিহত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের বসবাসরত এলাকায় আকস্মিক হামলায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও প্রতিদিনই হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা বাস্তবে কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় আলজাজিরার ক্যামেরাম্যানকে হত্যা করেছে এবং তিনি হামাসের সামরিক শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তাদের অভিযোগ। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর এই সংঘাত শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।