
সারা দেশে হাম উপসর্গে পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাতজন শিশু মারা গেছে, যাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। একই সময়ে নতুন করে ৮৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম এবং হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই সময় পর্যন্ত মোট ৬৭৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৯৩ জন শিশু, আর বাকি ৫৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হাম উপসর্গজনিত কারণে।
আক্রান্তের সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সময়ের মধ্যে দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৯৪৯ জন, যাদের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯১ হাজার ৭৮৯ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বা ভর্তি হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, রোগটির বিস্তার শুধু নিশ্চিত রোগীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং উপসর্গ পর্যায়ে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এ বিভাগে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩০৪ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৮৩ জন। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ঘনবসতি, জনসংখ্যার চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত চাপ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা না পাওয়া বা টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি থাকলে এই রোগের বিস্তার বেড়ে যায়। এছাড়া অপুষ্টি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় দেরি করাও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই এই সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।