
ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীর একতরফা তালাকের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক যুবক। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে শ্বশুরের বসতঘরের সিঁড়ির আড়ায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের মো. ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে তার দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং স্ত্রী তাকে তালাক দেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, আব্দুল কারিম দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। তিনি কোনো স্থায়ী পেশায় যুক্ত ছিলেন না এবং মাদকাসক্তির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এসব কারণে সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে আরও বেশি ভেঙে পড়েন। পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিচ্ছেদের কষ্ট তাকে গভীর হতাশার দিকে ঠেলে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে তিনি শ্বশুরবাড়ি আলগাদিয়া গ্রামে আসেন। পরে শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ায় দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি এবং মানসিক চাপ—এই সব মিলিয়ে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এলাকাজুড়ে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।