
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কড়া মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি। তিনি গাজা উপত্যকা পরিস্থিতি ও ইসরায়েলকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে কানি বলেন, গাজার যোদ্ধারা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে। তার ভাষায়, এতে ইসরায়েলকে “বিপর্যয়ের ঢেউয়ে” পড়তে হতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে লেবাননের হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা—বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি—অবমূল্যায়ন করার কারণে ইসরায়েলকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। কানি বলেন, হিজবুল্লাহর ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে পূর্বে সতর্ক করা হলেও তা গুরুত্ব না দেওয়ায় ইসরায়েলকে মূল্য দিতে হয়েছে।
তার বক্তব্যে তিনি হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তির প্রসঙ্গ টেনে ইঙ্গিত দেন যে, আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতাকে অবহেলা করা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গাজা প্রসঙ্গে কানি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “গাজারও একটি ঢেউ আছে। যদি তোমরা ভুল সিদ্ধান্ত নাও, এই ঢেউয়ে ভেসে যাবে।” তার এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা ইসরায়েলের প্রতি সরাসরি সামরিক ও রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে গাজা, লেবানন ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। বিভিন্ন সামরিক গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানি জেনারেলের এমন মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হুঁশিয়ারি শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে চলমান সংকট ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার ওপর। তবে বর্তমান বক্তব্যগুলো সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।