
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি কখনোই একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। তার মতে, দলটি দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে যুক্ত রয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জ সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা।
বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিযোগের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং বিদেশে অবস্থান করেও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাই দলটির গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে একটি রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক দল হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, তারা প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার ও শক্তিশালী হবে। শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। তার মতে, উভয় দেশের স্বার্থ ও মর্যাদা বজায় রেখেই যেকোনো চুক্তি সম্পন্ন হবে।
এর আগে স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকারের মাত্র তিন মাস হয়েছে এবং এই স্বল্প সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জের কালীদাস নদীর ওপর নির্মিত উত্তর ইসলামপুর–মোল্লারচর কাঠের পুলের পরিবর্তে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন।
এ ছাড়া তিনি গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামীণ বাজারে নবনির্মিত আধুনিক মার্কেট ভবনের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।
সফরকালে তিনি মোল্লারচর এলাকার একটি সাঁকো পরিদর্শন, সড়ক উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি তিনি উত্তর ইসলামপুর সামাজিক কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।
পরবর্তীতে জেলা সার্কিট হাউসে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।