
ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় সারা দেশের মতো দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি এলাকাতেও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই সমর্থকরা নিজেদের প্রিয় দলের সমর্থনে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন।
শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ সময় ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ এর অংশ হিসেবে ব্রাজিল ও হাইতির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই ম্যাচ ঘিরে হিলি বাজারের গোডাউন মোড়ে সকাল থেকেই ব্রাজিল সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়, যা পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
শুধু গোডাউন মোড়ই নয়, হাকিমপুর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই দলীয় জার্সি পরে ছোট-বড় সব বয়সের ফুটবলপ্রেমীরা মাঠের মতো পরিবেশে খেলা উপভোগ করতে জড়ো হন। খেলা শুরুর আগেই এলাকা দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে ম্যাচ শুরুর আগে কিছু সমর্থক অভিযোগ করেন যে, সাউন্ড সিস্টেমের বক্সের তার খুলে নেওয়া হয়েছে। এতে তারা কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আয়োজনের প্রতি অসন্তোষ জানান। তবুও খেলা শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা ও আনন্দে সেই ক্ষোভ অনেকটাই কমে যায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রাজিল একের পর এক তিনটি গোল করলে পুরো এলাকা আনন্দে ফেটে পড়ে। সমর্থকরা বাঁশি বাজিয়ে, উল্লাস করে এবং পতাকা উড়িয়ে প্রিয় দলের সাফল্য উদযাপন করেন। অনেকেই মনে করছেন, তারকা খেলোয়াড় নেইমার জুনিয়র মাঠে না থাকলেও ব্রাজিলের শক্তি ও পারফরম্যান্সে কোনো ঘাটতি নেই।
ব্রাজিলের ক্ষুদে সমর্থক খোয়েব ও রোহান বলেন, ব্রাজিল এমন একটি দল, যারা নেইমার ছাড়াও ভালো খেলতে পারে। হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল করা প্রমাণ করে দলটি এখনো শক্তিশালী। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এবার বিশ্বকাপ ট্রফি ব্রাজিলই জিতবে।
অন্যদিকে সমর্থক মিজানুর রহমান বাবু জানান, বড় পর্দায় খেলা দেখতে এসে সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা হওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হয়েছে। তবে তারা চান, ভবিষ্যতে কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়া সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে খেলা উপভোগ করতে পারে। তিনি বলেন, আজকের জয়ে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
বৈগ্রাম এলাকার আরেক সমর্থক মশিউর রহমান বকুল বলেন, ফুটবল মানেই আনন্দ আর বিশ্বকাপ মানেই বাড়তি উৎসব। ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা রয়েছে, এবার ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা। তিনি আরও বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেটাই সবার প্রত্যাশা।
হিলির এই আয়োজন প্রমাণ করে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়—এটি আবেগ, উন্মাদনা এবং সামাজিক মিলনের এক অনন্য মাধ্যম। বড় পর্দায় একসাথে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ভিন্নমাত্রার আনন্দ যোগ করেছে।