
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিয়ে শুরু হয়েছিল এবারের আসর। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে সেই রেকর্ড নিজেদের করে নেয় জার্মানি। কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও পাল্টে গেল চিত্র। হাইতির বিপক্ষে দাপুটে জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন পুনরুদ্ধার করেছে ব্রাজিল।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিন গোল করে দলটি নিজেদের মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ২৪১-এ উন্নীত করে। এর ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে ব্রাজিল।
এই অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ম্যাথিউস কুনহা। তাঁর জোড়া গোল ব্রাজিলকে শুধু ম্যাচে এগিয়ে দেয়নি, বরং ইতিহাসের পাতায়ও নতুন করে নাম লেখাতে সাহায্য করেছে। দলের তৃতীয় গোলটি আসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে। প্রথমার্ধের এই তিন গোলই ব্রাজিলকে রেকর্ডের চূড়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বিশ্বকাপ চলাকালে এই রেকর্ড নিয়ে ব্রাজিল ও জার্মানির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠতে পারে। দুই দলই টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে এবং প্রতিটি ম্যাচেই গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার এই মর্যাদা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত একাধিকবার হাতবদল হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, সর্বকালের গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পরও তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫। ফলে ব্রাজিল ও জার্মানির তুলনায় তারা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। চলতি আসরে সেই ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকলেও শীর্ষ দুই দলের কাছাকাছি পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।
হাইতির বিপক্ষে জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন করে আধিপত্যের বার্তাও দিয়েছে ব্রাজিলকে। গোলের রেকর্ড পুনর্দখল করে সেলেসাওরা আবারও প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলগুলোর অন্যতম তারা।