
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান জে-পি-মরগ্যান চেইস হংকংয়ে কর্মরত তাদের কর্মীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের ক্লড মডেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যানথ্রোপিকের লাইসেন্সিং চুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে উদ্বেগের কারণেই ব্যাংকটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ক্লড এআই মডেলটি জেপিমরগানের অনুমোদিত এআই টুলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও আরেকটি বড় মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স হংকংভিত্তিক কর্মীদের জন্য ক্লড ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করেছিল। ফলে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এআই ব্যবহারে ধীরে ধীরে কড়াকড়ি নীতি দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এই সিদ্ধান্তগুলোর মূল কারণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা এ ধরনের পদক্ষেপকে আরও প্রভাবিত করছে।
মূল ভূখণ্ড চীনে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এআই মডেলের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ হলেও হংকংয়ে এখনো কিছু এআই টুল সীমিত আকারে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে ডেটা সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক অ্যানথ্রোপিককে তাদের উন্নত এআই মডেল ‘মাইথোস’ ও ‘ফেবল’ বিদেশি ব্যবহারকারীদের কাছে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তার দাবি, এসব প্রযুক্তি সম্ভাব্যভাবে চীন, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ও অভিযোগ নিয়ে জেপিমরগান বা অ্যানথ্রোপিক—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়মনীতি দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ক্রস-বর্ডার ডেটা ট্রান্সফার, মডেল ট্রেনিং ডেটা এবং ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো বড় নিয়ন্ত্রক ইস্যু হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে বড় ব্যাংকগুলো এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ এআই টুল বা নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে, যাতে ঝুঁকি কমানো যায় এবং নিয়মনীতি মেনে চলা নিশ্চিত করা যায়।