
টাঙ্গাইলে জনগণের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় একটি উচ্চ জলাধার (ওভারহেড ট্যাংক) নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং আশেকপুর বাইপাস এলাকায় নতুন ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিতভাবে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ পাবেন। এটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলকে একটি আধুনিক ও উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং মৌলিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এর আগে প্রতিমন্ত্রী আশেকপুর বাইপাস এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরেকটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুইটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, যেগুলোর প্রতিটির পানি পরিশোধন ক্ষমতা ঘণ্টায় ৩৫০ ঘনমিটার। পাশাপাশি দুইটি ৬৮০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য। পানি শোধনাগার নির্মাণে মোট কার্যাদেশ মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৪ টাকা, আর উচ্চ জলাধার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ৩১১ টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার ৪, ৫, ৬, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৯টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইল পৌর এলাকায় পানি সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে সেই সংকট অনেকাংশে কমে আসবে এবং নাগরিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী রাইসুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, এই প্রকল্পকে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।