
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কামারপুকুর এলাকার পতনডোবা গ্রামে বিষাক্ত সাপের কামড়ে মিরা (১৩) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মিরা ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ একটি বিষাক্ত সাপ মিরাকে কামড় দেয়। বিষয়টি টের পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. ফিরোজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে আনার পর শিশুটিকে দ্রুত এন্টিভেনম দেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথেই মিরার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানান, সাপের বিষ শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এবং সময়মতো কার্যকর চিকিৎসা পুরোপুরি সফল না হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ঘরবাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে। তারা নিয়মিত সাপের কামড় প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জরুরি চিকিৎসা সুবিধা আরও উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং যথাসময়ে এন্টিভেনম প্রয়োগই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। তবে গ্রামীণ অঞ্চলে অনেক সময় দেরি হওয়া বা প্রাথমিক ভুল চিকিৎসা পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।
ঠাকুরগাঁওয়ের এই ঘটনা আবারও গ্রামীণ জনপদে সাপের কামড়জনিত ঝুঁকি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।