
দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণ। নাবাতিয়াহ শহর ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম।
শুক্রবার জেরুজালেম পোস্ট এবং লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পরপরই অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়।
স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় নাবাতিয়াহ শহর, কাফর তেবনিত, নাবাতিয়াহ আল-ফাওকা এবং রাইহান পাহাড়ি এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়। পরে আবারও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কাফরজোজ এবং হারুফের আল-বাইদার অঞ্চলে নতুন করে আঘাত হানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আল-আশামিয়া এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে চালানো হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং সেখানে চারজন নিহত হন। একই সময়ে কাফর সির এলাকায় পৃথক হামলায় আরও তিনজন প্রাণ হারান।
ভোরের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুইর পৌরসভা ভবনের কাছে এবং দেইর আল-জাহরানি-নাবাতিয়াহ মহাসড়কে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো দুটি ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হন। পরে দুইর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছায়।
এই হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে চলমান এই সংঘাতের মধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। চীন এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যেন কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করা হয়। একই সঙ্গে সব পক্ষকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংলাপকে এগিয়ে নিতে চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ধারাবাহিক বিমান হামলা, অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণ—এই দুইয়ের মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে, যেখানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সামরিক সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।