শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত মুস্তাফা মনোয়ার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত মুস্তাফা মনোয়ার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত মুস্তাফা মনোয়ার ছবির ক্যাপশন:

দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অগ্রপথিক, বরেণ্য চিত্রশিল্পী, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ফুলেল শ্রদ্ধার মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতির এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বকে বিদায় জানান।

দিনের শুরুতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে বিটিভিতে। তাই এই প্রাঙ্গণে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান।

পরে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের উদ্যোগে সকাল ১১টার দিকে তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হলে মুহূর্তেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়। অসংখ্য ফুলে ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। নীরবতা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে উপস্থিত সবাই স্মরণ করেন দেশের শিল্প-সংস্কৃতির এই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে।

শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিল দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে ছিল বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, আইটিআই বাংলাদেশ, প্রাচ্যনাট, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদল, আবদুল্লাহ আল মামুন থিয়েটার স্কুল, চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, নৃত্যশিল্পী সংস্থা, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, যেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজার আয়োজন করা হয়।

জানাজা শেষে কিছু সময়ের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করা এই প্রতিষ্ঠানে তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শিল্পানুরাগীরা প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পান। চারুকলায় তাঁর অবদান ও শিল্পচর্চার স্মৃতিচারণ করেন অনেকেই।

পরবর্তী সময়ে মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। এই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিও’ তাঁর শিল্পসাধনা ও সৃজনশীল অবদানের একটি স্থায়ী স্মারক হিসেবে পরিচিত। সেখানে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

সবশেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম কিংবদন্তি এই ব্যক্তিত্ব।

দীর্ঘ কয়েক দশকের শিল্পচর্চা, সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার পথে অনুপ্রাণিত করার মধ্য দিয়ে মুস্তাফা মনোয়ার বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর শিল্পকর্ম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর বিদায়ে দেশের শিল্পাঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা