পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে মতামত দেওয়ার সুযোগ বা অধিকার রাখে না। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার বর্তমানে গণভোট ও নির্বাচন বিষয়ে জনগণকে অবহিত করার কাজ করছে। তিনি জানান, উপদেষ্টারা দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্র এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এসব সভায় গণভোট কেন আয়োজন করা হচ্ছে এবং গণভোটে কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—সে সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন আর উপদেষ্টারা জেলাভিত্তিক সফরে যাচ্ছেন না। তবে গণভোটের পক্ষে প্রস্তুতকৃত কিছু তথ্যবহুল ম্যাটেরিয়াল জনগণের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব শুধু এটুকুই—১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সে তথ্য জনগণকে জানানো। এর বাইরে প্রশাসনের অতিরিক্ত কোনো ভূমিকা থাকার কথা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, কিছু কিছু জায়গায় রাজনৈতিক শালীনতা ও ভদ্রতার সীমা রক্ষা করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো বিষয় যদি আইনশৃঙ্খলার পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সেটি সরকারের দায়িত্ব। তবে তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বলল—সে বিষয়গুলো সরকারের দায়িত্ব নয়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন একটি দেশের সার্বভৌম ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া। অন্য কোনো দেশ এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু আগেভাগে মতামত দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, “কে জিতবে, কে হারবে—এ ধরনের মন্তব্য নির্বাচন হওয়ার আগেই করলে তা বস্তুনিষ্ঠ বলে মনে করার সুযোগ থাকে না।”
সব মিলিয়ে সরকার নির্বাচন ও গণভোটকে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজওয়ানা হাসান।
কসমিক ডেস্ক