এক গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুতে ২৫ বছরে সাশ্রয় ৩ বিলিয়ন ডলার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এক গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুতে ২৫ বছরে সাশ্রয় ৩ বিলিয়ন ডলার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 16, 2026 ইং
এক গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুতে ২৫ বছরে সাশ্রয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছবির ক্যাপশন:

জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা Institute for Energy Economics and Financial Analysis। সংস্থাটি বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ালে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সোমবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে যদি এক গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা যায়, তাহলে আগামী ২৫ বছরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

‘ইরান উত্তেজনা এশিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির জরুরি প্রয়োজন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান ইরান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সংস্থাটি জানায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫১ শতাংশ এবং এলএনজির দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর এশিয়ার দেশগুলো নতুন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।

এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের উদ্যোগ জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে আইইইএফএ।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আমদানি করা এলএনজির একটি বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও ওমান থেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ খোলা বাজার থেকে একটি এলএনজি কার্গো কিনেছে, যার দাম পড়েছে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৮ দশমিক ২৮ ডলার।

এটি গত মাসের জাপান–কোরিয়া মার্কার সূচকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষণা সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এলএনজি আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত দেশীয় গ্যাস মজুদ এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

তখন এলএনজির ব্যবহার কিছুটা কমলেও উচ্চ মূল্যের কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়লে অর্থনীতিতে একটি ‘দুষ্টচক্র’ তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যায়, ফলে আমদানি ব্যয় আরও বেড়ে যায় এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়।

এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়ে এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপও বৃদ্ধি পায়।

আইইইএফএ বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ সৌর ও বায়ুশক্তির তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি।

এই কারণে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌর ও বায়ুশক্তি এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ালে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সংস্থাটি বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ত্রাণ সংস্থার ওপর কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা, গাজায় সংকট আরও বাড়ার আশ

ত্রাণ সংস্থার ওপর কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা, গাজায় সংকট আরও বাড়ার আশ