জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাম্প্রতিক বক্তব্য বা আচরণের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তার কোনো কথা বা কাজে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ আহত হয়ে থাকেন, তবে তিনি সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে তিনি সবার দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শকে তার পথচলার শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, গত কয়েকদিনে তিনি বিভিন্ন বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা পেয়েছেন, যা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, এসব আলোচনায় তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকা, অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য এড়িয়ে চলা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিনয়ের সঙ্গে এসব পরামর্শ গ্রহণ করেছেন এবং তা অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তার ভাষায়, তিনি এখন থেকে আরও শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীলভাবে চলার চেষ্টা করবেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচকতা বজায় রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান বলে জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি মনে করেন, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারে।
এছাড়া তিনি তার ব্যক্তিগত আত্মিক অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে তিনি একটি আত্মিক যাত্রার সূচনা করেছেন। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি তার মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।
সবশেষে তিনি আল্লাহর কাছে সবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার দোয়া করেন। তার এই বক্তব্যে ব্যক্তিগত আত্মসমালোচনা, পরামর্শ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল আচরণের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
এই পোস্টটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে, একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি অনেকের কাছে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক