প্রেস উইং নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন সাংবাদিক সায়ের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রেস উইং নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন সাংবাদিক সায়ের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 6, 2026 ইং
প্রেস উইং নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন সাংবাদিক সায়ের ছবির ক্যাপশন:

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হতো এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হতো—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। বুধবার (৬ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন এবং এর পক্ষে একটি অডিও রেকর্ডও সংযুক্ত করেন।

সায়েরের দাবি অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের সময় ও পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইংয়ের কিছু কর্মকর্তা রাজনৈতিকভাবে নির্দিষ্ট দলের ভূমিকা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করতেন। বিশেষ করে বিএনপির সংশ্লিষ্টতাকে ছোট করে উপস্থাপন করার প্রবণতা ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, প্রেস উইং থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হতো। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপনে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নেওয়া হতো বলেও তার দাবি।

তিনি আরও জানান, এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছেন, যেখানে কথোপকথন হয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রেসসচিব তারিক চয়ন এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আজাদ মজুমদারের মধ্যে।

সায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কথোপকথনটি ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই রেকর্ড করা হয়। এর এক বছর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তারিক চয়ন একটি মানবাধিকারকর্মীর কাছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ সংক্রান্ত তথ্য পাঠান, যখন দেশে ইন্টারনেট বন্ধ ছিল।

পরে ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই সেই পুরোনো তথ্য ও স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুকে শেয়ার করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আজাদ মজুমদার তাকে ফোন করে প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি বিএনপিকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে তথ্য প্রকাশ করেছেন—এমন অভিযোগও উঠে এসেছে।

জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, কথোপকথনে এক পর্যায়ে আজাদ মজুমদার স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিএনপির ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে না পেরে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন বলেও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, তারিক চয়ন জানান, এর আগেও একই ধরনের চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ২২ জুন তিনি বিএনপি নেতা ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে পরদিনই তাকে ফোন করে জবাবদিহি চাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তার ভাষ্যমতে, তাকে প্রশ্ন করা হয় কেন তিনি গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের একজন কর্মকর্তা হয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যে, বিএনপি কি ওই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়নি—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে তারিক চয়ন দাবি করেন, ওই ছবি ডিলিট না করায় তিনি প্রশাসনিকভাবে চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং তাকে অসহযোগিতার শিকার হতে হয়।

এদিকে, এসব অভিযোগ প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা সরকারি যোগাযোগ ও প্রেস ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে এসব দাবি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এই পোস্ট নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সাবাহ উপকূলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বোর্নিও

সাবাহ উপকূলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বোর্নিও