ভোটের মুখে কেন বড় সিদ্ধান্তে ব্যস্ত অন্তর্বর্তী সরকার? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভোটের মুখে কেন বড় সিদ্ধান্তে ব্যস্ত অন্তর্বর্তী সরকার?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 3, 2026 ইং
ভোটের মুখে কেন বড় সিদ্ধান্তে ব্যস্ত অন্তর্বর্তী সরকার? ছবির ক্যাপশন:
ad728

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও একমাত্র দায়িত্ব হওয়া উচিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, সরকার ততই নীতিনির্ধারণী ও আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎপর হয়ে উঠছে।

শুধু প্রশাসনিক বা রুটিন কাজ নয়—নির্বাচনের ঠিক আগে সরকার এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকারও নিতে দ্বিধা করবে। ব্যয়বহুল কেনাকাটা, আন্তর্জাতিক চুক্তি, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করে—এমন উদ্যোগ জনমনে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

এই সময় রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত নির্বাচনী প্রচারে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের কর্মকাণ্ড তদারকি করার সুযোগ সীমিত। প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি ইচ্ছাকৃতভাবেই এই সময়টাকে বেছে নিয়েছে? জনগণের চোখ এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সেরে ফেলার চেষ্টা কি চলছে?

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমানো এবং বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এর বিনিময়ে বাংলাদেশকে যে প্রতিশ্রুতি দিতে হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি।

এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা, সরবরাহের সময়, মূল্য ও কনফিগারেশন—সবই এমন সিদ্ধান্ত, যা কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার কি একটি অনির্বাচিত, অন্তর্বর্তী সরকারের আছে—এই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে উঠছে।

কারণ, এসব চুক্তির আর্থিক দায় বহন করতে হবে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই যদি নতুন সরকারের কাঁধে হাজার হাজার কোটি টাকার দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতা কোথায় থাকবে?

এ প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাকে অনেকেই বোয়িং ক্রয়ের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। সত্যিই যদি এর মধ্যে কোনো যোগসূত্র থাকে, তবে স্বচ্ছতার প্রশ্ন আরও গভীর হয়।

এখানেই শেষ নয়। নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পেশ করা হয়েছে, যার বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বাস্তবতা হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাহলে এই সুপারিশ কেন এখন? এর দায়ভার তো পড়বে আগামী সরকারের ওপর।

একইভাবে, সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মতামত চাওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কাঠামো তৈরির জন্য মোটেই যথাযথ নয়। এতে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েই এই সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত ১৭ মাসে রাজনৈতিক দলগুলো এই সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। এত সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব কম সরকারই পেয়েছে।

এই সমর্থন ও আস্থার প্রতিদান হিসেবে সরকারের দায়িত্ব ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা—এর বেশি কিছু নয়। বিদায়ের প্রাক্কালে এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যা নতুন সরকারের জন্য অস্বস্তি, আর্থিক চাপ কিংবা রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল শেষ দিনগুলোতে কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করা এবং নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া। শেষবেলায় এসে যদি এই সরকারকে ঘিরে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়, তা কারও জন্যই কাম্য নয়।

গণতন্ত্রের স্বার্থেই এখন সময় সংযম দেখানোর। ইতিহাস যেন এই সময়কে প্রশ্নবিদ্ধ না করে—এই দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নিরাপত্তাহীনতার ছায়া: নিয়ন্ত্রণের বাইরে আইনশৃঙ্খলা, আতঙ্কে জ

নিরাপত্তাহীনতার ছায়া: নিয়ন্ত্রণের বাইরে আইনশৃঙ্খলা, আতঙ্কে জ