মিয়ানমারে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় এই ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়।
ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ দশমিক ৫১০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩ দশমিক ৯৩২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাখাইন রাজ্যের সিত্তে শহর থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ইয়েনানগিয়াং শহর থেকে প্রায় ৯৮ কিলোমিটার পশ্চিমে। এই কম্পন মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে একই দিন রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে মিয়ানমারে ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফার কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মানুষ নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।
তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বড় ধরনের আফটারশক হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে মাঝেমধ্যে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পগুলোর প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও অনুভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক