দেশে কুকুরে কামড়ানো বা জলাতঙ্ক সংক্রমণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই উদ্বেগ দেখা যায়, বিশেষ করে আশ্বিন মাসে যখন এ ধরনের ঘটনার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তবে এবার এমন পরিস্থিতিতেও অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি হবে না বলে স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতেও কোনো সমস্যা না হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে উপজেলা, জেলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়—এই তিন স্তরে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এমনকি প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো উপজেলায় রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে এবং মজুত ফুরিয়ে গেলে পাশের উপজেলা থেকে দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা যাবে। সেখানেও সংকট দেখা দিলে জেলা পর্যায় থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া, জেলা পর্যায়ের মজুতও শেষ হয়ে গেলে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ না কেন্দ্রীয়ভাবে (সিএমএসডি) নতুন ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। এর ফলে কোনো রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না বলে মনে করছে সরকার।
কুকুরে কামড়ানোর পর ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে জিরো আওয়ার বা কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৮ দিনের মধ্যে মোট চারটি ডোজ ভ্যাকসিন নিতে হয়। এই ডোজগুলো যথাসময়ে গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
সরকারের এই প্রস্তুতির ফলে আশ্বিন মাসে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি জানান। বরং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং সচেতন থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা ঘটলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পোষা প্রাণীর টিকাদান নিশ্চিত করাও জরুরি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও সক্ষমতার একটি ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে। চার স্তরে ভ্যাকসিন মজুত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা প্রমাণ করে যে সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আশ্বিন মাসে কুকুরে কামড়ের ঘটনা বাড়লেও দেশে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের কোনো সংকট হবে না। সরকারের প্রস্তুতি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে জনগণ নিশ্চিন্তে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবে।
কসমিক ডেস্ক