রসগোল্লাও ফেরাতে পারেনি শুভেন্দুকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এখন তিনিই The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রসগোল্লাও ফেরাতে পারেনি শুভেন্দুকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এখন তিনিই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 9, 2026 ইং
রসগোল্লাও ফেরাতে পারেনি শুভেন্দুকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এখন তিনিই ছবির ক্যাপশন:

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে Suvendu Adhikari-র নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। শুক্রবার বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম চূড়ান্ত করেন Amit Shah

এবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে All India Trinamool Congress। দলটির ভরাডুবির পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে Abhishek Banerjee ও শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

দলের একাংশের মতে, ২০১৪ সালে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা আসনে অভিষেককে প্রার্থী করার পর থেকেই তৃণমূলে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে উঠতে শুরু করে। সেই সময় দলীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য Mukul Roy এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন শুরু হয়। ওই বছর ব্রিগেডের শহিদ দিবসের সভায় বড়ভাবে সামনে আনা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তখন পর্যন্ত তিনি মূলত Mamata Banerjee-র ভাইপো হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

সেই সভাতেই ‘যুবা’ নামে নতুন একটি সংগঠন গঠন করা হয় এবং এর দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিষেককে। অথচ আগে থেকেই দলের যুব সংগঠন ‘যুব তৃণমূল’-এর সভাপতি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তাকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে দলের ভেতরে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এরপর থেকেই শুভেন্দু ও অভিষেকের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিষেকের প্রভাব বাড়তে থাকলে শুভেন্দু ধীরে ধীরে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে যান।

একসময় নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু। সেই আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে মাঠ পর্যায়ে সংগঠন পরিচালনা করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে মমতার অন্যতম ভরসার নেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে আই-প্যাককে ঘিরে জেলা পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন হলে শুভেন্দুর সঙ্গে দলের দূরত্ব আরও বাড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দুকে দলে রাখার জন্য একাধিক চেষ্টা হয়েছিল। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর শ্যামবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজনৈতিক কৌশলবিদ Prashant Kishor, Sudip Bandyopadhyay এবং Saugata Roy উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সময় অভিষেকের ফোন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলেন শুভেন্দু। তবে শেষ পর্যন্ত মতবিরোধ মেটেনি। পরে অভিষেক তাকে রসগোল্লা খাইয়ে দলে রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও রাজনৈতিক অন্দরে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি।

পরবর্তীতে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে অমিত শাহর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনায় চলে আসেন তিনি।

গত কয়েক বছরে মমতা সরকারের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন শুভেন্দু। বিরোধী রাজনীতির মুখ হয়ে ওঠার পর এবার ভবানীপুরেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পৌঁছালেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের পালাবদল এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার লড়াইয়ের ফলেই শুভেন্দুর সঙ্গে দলের সম্পর্ক ভেঙে যায়। একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেও সময়ের ব্যবধানে তিনিই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রিট আবেদন

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে রিট আবেদন