নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় একটি রাজনৈতিক নেতার গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই কাপড় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার হওয়া কাপড়ের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় চরবাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন রাজু।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের অংশ হিসেবে সুবর্ণচরের চরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার এবং হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই কাপড় উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার শুরু ২৪ এপ্রিল রাতে। জানা যায়, কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেডের আমদানি করা ১৬৩টি কাপড়ের বান্ডেল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানে লোড করা হয়। এসব কাপড় গাজীপুর চৌরাস্তা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে গাড়িটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে অন্য পথে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে গাড়িচালকের সহায়তায় কাপড়গুলো আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এই কাপড়গুলো নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে সংরক্ষণ করা হয়।
এক অংশ রাখা হয় হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের বয়ারচরের একটি ঘরে এবং অন্য অংশ রাখা হয় সুবর্ণচরের চরমজিদ ভূঞারহাট বাজারে, যেখানে স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি গোডাউন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই গোডাউনটি Nurul Huda-এর মালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে, যিনি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হিসেবে পরিচিত।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ও স্থানীয় ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, হরণী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবুল বাশার এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর ডিবি পুলিশ নোয়াখালী ও হাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই কাপড় উদ্ধার এবং আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন রাজু জানান, উদ্ধার হওয়া কাপড়ের পরিমাণ ছিল ১৬৩টি বান্ডেল, যার একটি অংশ চরমজিদ ভূঞারহাট বাজার থেকে এবং আরেকটি অংশ হরণী ইউনিয়ন থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় পরিমাণ কাপড় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন ও সংরক্ষণ রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া সম্ভব নয়। তারা দাবি করেন, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
তবে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হরণী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইব্রাহীম খলিল জানান, তিনি শুধু একটি ঘর ভাড়া দিতে সহায়তা করেছেন এবং চোরাই কাপড় সংরক্ষণের বিষয়টি তিনি জানতেন না।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নুরুল হুদা বলেন, তিনি শুধু ঘর ভাড়া দিয়েছেন, তবে সেখানে কী রাখা হয়েছে তা তার জানা ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত কাপড়ের মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
এই ঘটনা স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এমন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
কসমিক ডেস্ক