বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী জুন মাসে চীন সফরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সম্ভাব্য এই সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিষয়ে পরিকল্পনা চলছে এবং তিনি জুন মাসে চীন বা ভারত সফরে যেতে পারেন। তবে চীন সফর নিয়ে বিশেষভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়সূচি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সুবিধাজনক সময় এবং স্বাগতিক দেশের সরকারপ্রধানের সময় মিলিয়ে সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্ভাব্য এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা আরও এগোতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও চীন সফরে যাচ্ছেন এবং সেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং তা এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র জানায়, চীনা সরকারের আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৫ মে চীনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন এবং আগামী ৭ মে পর্যন্ত তিনি বেইজিং-এ অবস্থান করবেন। এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। তিস্তা প্রকল্পসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরসূচিতে এই দুই দেশের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাস্তবায়িত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবে চীনের সম্পৃক্ততা এই প্রকল্পে নতুন গতি আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়, বরং এটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক