মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইরানের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির আগ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেললাইন এবং অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়।
তবে বিস্ময়কর গতিতে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে তেহরান। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো পুনরায় সচল করেছে ইরান, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত রেল অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে সেতু, রেললাইন এবং স্টেশন মেরামতের কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আজারবাইজান অঞ্চলের রেলওয়ে মহাপরিচালক জানিয়েছেন, তাবরিজ থেকে রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর মাশহাদ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এই রুটগুলো ইরানের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু মাত্র ৪০ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করে আবার চালু করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের উপ-গভর্নর খসরু সামারি জানান, দ্রুতগতির প্রকৌশল কাজের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া ইসফাহান প্রদেশের কাশান শহরের ইয়াহইয়া আবাদ এলাকায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়।
সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন সম্পূর্ণ করতে তিন মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে জরুরি ভিত্তিতে যেসব রুট গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো দ্রুত চালু করা হচ্ছে যাতে জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও দ্রুত অবকাঠামো পুনর্গঠন ইরানের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা এবং কৌশলগত ব্যবস্থাপনার একটি বড় উদাহরণ। বিশেষ করে পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত সচল করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। জ্বালানি সংকট, খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মতো প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে, এই সংঘাতের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং লাখ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের দ্রুত রেলপথ পুনরুদ্ধার শুধুমাত্র একটি অবকাঠামোগত সাফল্য নয়, বরং এটি যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও।
বর্তমানে ইরান সরকার পরিবহন খাতকে স্বাভাবিক রাখতে আরও বড় পরিসরে পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন সংকটের প্রভাব কমানো যায়।
কসমিক ডেস্ক