জলাবদ্ধ জমিতে সাফল্যের গল্প: দাউদকান্দির মাছ চাষে বিপ্লব The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জলাবদ্ধ জমিতে সাফল্যের গল্প: দাউদকান্দির মাছ চাষে বিপ্লব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 10, 2026 ইং
জলাবদ্ধ জমিতে সাফল্যের গল্প: দাউদকান্দির মাছ চাষে বিপ্লব ছবির ক্যাপশন:

একসময় বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতায় পড়ে থাকা জমি আজ রূপ নিয়েছে সম্ভাবনার সোনার খনিতে। Daudkandi Upazila এখন দেশের অন্যতম সফল মাছ উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে প্লাবনভূমিকে কাজে লাগিয়ে বছরে প্রায় দুই লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে।

এই বিপ্লবের কেন্দ্রস্থল Cumilla জেলার দাউদকান্দি উপজেলা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ইলিয়টগঞ্জ, আদমপুর, পুটিয়া, বাসরা, রায়পুর, সিংগুলা, লক্ষ্মীপুর ও সুহিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে অন্তত ১১৫টি মৎস্য প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার মাছ উৎপাদন হচ্ছে।

এখানে মূলত Rui Fish, Catla Fish, Mrigel Fish, সিলভার কার্প, সরপুটি ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাউদকান্দির এই মডেল দেশের প্লাবনভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত জমিতে মাছ চাষ এবং শুষ্ক মৌসুমে ধান উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা দ্বৈত সুবিধা পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে এসব জমি বছরে ৮ থেকে ৯ মাস জলাবদ্ধ থাকায় পতিত পড়ে থাকত। কিন্তু ১৯৮৬ সালে ধানুয়াখোলা গ্রামের Sunil Kumar Ray প্রথম প্লাবনভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। তার উদ্যোগই পরবর্তীতে এক বৃহৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ নেয়।

বর্তমানে এই খাতে লাখো মানুষ জড়িত। শুধু কৃষকরাই নন, বেকার যুবকরাও এই খাতে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হয় মাছ কেনাবেচার ব্যস্ততা। পাইকাররা সরাসরি খামার থেকে মাছ সংগ্রহ করেন এবং ট্রাক ও পিকআপভ্যানে করে সেগুলো পাঠানো হয় Dhaka, Chattogramসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, পরিষ্কার পানির কারণে এখানকার মাছের স্বাদ ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি। তবে মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে।

এই খাতে সফল উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন আলী আহমদ মিয়াজী, যিনি একাধিক মৎস্য প্রকল্প পরিচালনা করছেন এবং প্রায় ৪০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। তার মতো অনেক উদ্যোক্তা এই খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মৃত খাল খনন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হবে। বিশেষ করে হিমাগার স্থাপন করা হলে মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ আরও সহজ হবে।

দাউদকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে উপজেলায় শতাধিক মৎস্য প্রকল্প সক্রিয় রয়েছে এবং সরকারিভাবে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এতে শিক্ষিত তরুণরাও এই খাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ শুধু একটি কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি সফল অর্থনৈতিক মডেল। সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা পেলে এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
তেল নয়, এবার পানি নিয়ে বাড়তে পারে সংঘাত

তেল নয়, এবার পানি নিয়ে বাড়তে পারে সংঘাত