কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় এক অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ ভেতরে থাকা সব কিছুই আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের রামারবাগ গ্রামে আবুল খায়েরের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় হঠাৎ করেই বসতঘর থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ আবুল খায়েরের বসতঘরে আগুন লাগে। আগুন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে পানি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে দ্রুত লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের দ্রুত ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে বসতঘরের ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
লাকসাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কবিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এতে আশপাশের অন্যান্য ঘরবাড়ি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।”
এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাদের বসবাসের একমাত্র ঘরটি পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পরপরই পরিস্থিতি খুব দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। তারা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এ ধরনের ঘটনা থেকে সচেতন থাকার জন্য ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সবাইকে বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে পুরোনো তার বা অব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি উঠেছে।