দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে স্বস্তির আভাস দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে জানা যায়, বন্দরের জলসীমায় একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী জাহাজ নোঙর করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বন্দরের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে এলএনজি ও এলপিজিসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি দেশে প্রবেশ করে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহাজ দুটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে জ্বালানি খালাস করবে। এলএনজি ও এলপিজি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বিকল্প উৎস এবং নিয়মিত আমদানির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই অবস্থায় এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজের আগমন দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানির চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব জাহাজ থেকে সরবরাহকৃত গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও সচল রাখতে সহায়ক হবে।
সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ পৌঁছানো দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে চলমান সংকট পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক