মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব দেশের স্বর্ণবাজারেও পড়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন দরেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে মূল্যবান এই ধাতু।
Bangladesh Jewellers Association (বাজুস) সর্বশেষ ১ এপ্রিল মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে দেশের বাজারে নতুন দাম কার্যকর রয়েছে। এবারের সমন্বয়ে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।
এর আগে, ৩১ মার্চও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে এসব দামের ওপরই বৃদ্ধি যোগ হয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৫১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২১ বার কমানো হয়েছে। এই ওঠানামা আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়।
রুপার বাজারেও চলতি বছরে একাধিকবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৩০ বার মূল্য পরিবর্তন হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ বার দাম বেড়েছে এবং ১৩ বার কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, ডলার বিনিময় হার এবং বৈদেশিক বাজারের ওঠানামা—সব মিলিয়ে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দেশের স্বর্ণবাজার বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। ক্রেতাদের জন্য এটি বাড়তি ব্যয়ের কারণ হলেও বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক