হাইতিতে গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীর অভিযান শুরু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হাইতিতে গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীর অভিযান শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 2, 2026 ইং
হাইতিতে গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত বাহিনীর অভিযান শুরু ছবির ক্যাপশন:

ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে দীর্ঘদিনের গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। United Nations-সমর্থিত ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’ (জিএসএফ)-এর প্রথম বিদেশি সেনারা ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আফ্রিকার দেশ চাদের একটি অগ্রবর্তী সামরিক দল বুধবার রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিসংঘ কর্মকর্তা Jack Christofides, যিনি এই নতুন বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন।

এই নতুন বাহিনীকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫,৫০০ সদস্যে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ১২ মাসের জন্য এর কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই মিশনের অনুমোদন দেয়। এটি মূলত ২০২৩ সালে গঠিত কেনিয়া-নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশনের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে, যা পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জনবল সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

নতুন এই উদ্যোগের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে United StatesPanama। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী গঠিত বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো হাইতির গ্যাংগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা, বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের কার্যক্রম প্রতিরোধ করা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাহিনীকে সরাসরি অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী মিশনের তুলনায় বড় পরিবর্তন।

তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সমালোচনাও রয়েছে। Russia-এর প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া এই পদক্ষেপকে ‘তাড়াহুড়ো করে নেওয়া’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের মাধ্যমে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া অতীতে শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছিল, যা এই ধরনের মিশন নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাইতি কার্যত গ্যাং নিয়ন্ত্রিত একটি দেশে পরিণত হয়েছে। রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। United Nations-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই সংকটের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট Jovenel Moïse হত্যাকাণ্ডের পর দেশটিতে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়। নির্বাচনের অভাব ও দুর্বল প্রশাসনের সুযোগ নিয়ে গ্যাংগুলো ধীরে ধীরে দেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

বর্তমানে হাইতি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী Ariel Henry-এর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে (প্রসঙ্গভেদে প্রশাসনিক পরিবর্তন থাকতে পারে)। দীর্ঘ বিলম্বের পর আগামী আগস্টে জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বাহিনী যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে হাইতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান জটিল বাস্তবতার কারণে এই মিশনের সফলতা নিয়ে এখনো সংশয় রয়ে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নোয়াখালীতে চলন্ত বাস থেকে ছিটকে যুবকের মৃত্যু

নোয়াখালীতে চলন্ত বাস থেকে ছিটকে যুবকের মৃত্যু