পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দশমিনা উপজেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুরের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলার বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নুরুল হক নুরের সমর্থক ও চরবোরহান ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মহিবুল্লাহ হাওলাদার অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গণ অধিকার পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভা করছিলেন। এ সময় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকেরা ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিতে দিতে দলবদ্ধভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
মহিবুল্লাহ হাওলাদারের দাবি, চরবোরহান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল গাজী, সাবেক ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলাম জুয়েল ও সদস্যসচিব আসাদুল জোমাদ্দারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৭০ জন এই হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কিছু সময় হামলা অব্যাহত থাকে। এতে দশমিনা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ, চরবোরহান ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্যসচিব মো. মাসুদ এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সঙ্গে যুক্ত মো. মুছাসহ সাত থেকে আটজন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থক ও চরবোরহান ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় তারা নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসান মামুনের পক্ষে একটি মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় ট্রাক প্রতীকের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে গণ অধিকার পরিষদের কর্মীরা মিছিলে ঢুকে হাতাহাতি ও মারধর শুরু করেন। এতে তাদের তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাক প্রতীকের কার্যালয়ে হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আসাদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, সোমবার রাতে চরবোরহান ইউনিয়নের একটি বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কসমিক ডেস্ক