মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ইরাক-এ চালানো এক যৌথ বিমান হামলাকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩২ জন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে Popular Mobilization Forces (পিএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক হিসাব এবং মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পিএমএফ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজধানী বাগদাদসহ ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা এবং দিয়ালা—এই সাতটি প্রদেশে তাদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন আলী আল-জাইদি, যিনি বর্তমানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশটির সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব দাবি করেছে, তাদের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ফলে এটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত জোটের মধ্যে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক