আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর রিনিঝিনি বৃষ্টির শব্দ। আষাঢ়- শ্রাবণের এ ভরা মৌসুমেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাজার -হাটে আর আগের মতো তেমন আর চোখে পড়েনা ছাতা মেরামতের সেই চিরচেনা দৃশ্য। এক সময়ের বর্ষার অপরিহার্য এই পেশাটি আজ সস্তা ও সহজলভ্য চাইনিজ ছাতার দাপটে বিলুপ্তির পথে। মেরামতের সরঞ্জামের আকাশচুম্বি দাম আর ক্রেতাদের অনিহার কারণে ঐতিহ্যবাহী সোনাইচণ্ডী হাটসহ ছাতা কারিগরদের টুংটাং শব্দ এখন অনেকটাই নীরব।
স্থানীয় প্রবীনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক দশক আগেও বর্ষা মৌসুম আগমনের মাস দুইয়েক আগ থেকেই সোনাইচন্ডী হাটের ছাতা কারিগরদের দম ফেলার ফুরসত থাকত না। গ্রামীণ মানুষ তাদের পুরানো ও নষ্ট ছাতাগুলো নিয়ে হাটে ভিড় জমাতেন। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগে সেই জৌলুস আর নেই।বাজারে এখন মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে দেখতে সুন্দর ও ওজনে হালকা চাইনিজ ছাতা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, একটি পুরানো ছাতার কাপড়, ভেতরের লোহার সিক বা বাঁট পরিবর্তন করতে গেলে খরচ পড়ে নতুন ছাতার কাছাকাছি। ফলে সাধারণ মানুষ মেরামতের চেয়ে নতুন ছাতা কেনাকে বেশি সাশ্রয়ী মনে করছেন।
সোনাইচণ্ডী হাটের ছাতা মেরামতকারী ষাটার্ধো বয়সী আঃ রউফ বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে এই কাজই করে আসছি। আগে বর্ষা আসার দুই মাস আগে থেকেই সোনাইচন্ডি হাটে হাটে দম ফেলানোর সময় পেতাম না। এখন আগের মত কাজ না থাকায় অনেকে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। এ পেশা এখন শুধুই অতীত।
এদিকে সময় মত ছাতা মেরামতের কারিগর না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রবীণ ক্রেতা। তাদের মতে, আজ থেকে ২০ বছর আগে আষাঢ় মাস আসলেই গ্রামে গ্রামে ছাতা মেরামতের কারিগর ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। ফলে আমাদের বাধ্য হয়ে সোনাচন্ডী হাটে ছাতা মেরামত করতে আসতে হয়।
কালের বিবর্তনে অনেক গ্রামীণ ঐতিহ্যের মতোই হারিয়ে যেতে বসেছে সোনাইচন্ডী হাটের এই ছাতা মেরামত শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তির প্লাবনে সুদিন হারিয়ে আজ শুধু টিকে থাকার লড়াই করছেন এই কারিগররা। তবে কেবল একটি পেশা হিসেবেই নয়, লোকজ ঐতিহ্যের অংশ হিসাবে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকতারুজ্জামান ফাহিম, পটিয়া প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম